ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরও এক সদস্য। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার নতুন বাড়ির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের ৫ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আরিফা।

ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাংলাদেশি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নিহত হন কামাল, তার স্ত্রী এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা।

হামলার সময় প্রাণ বাঁচাতে বাসা থেকে বেরিয়ে সাহায্য চাওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের ১৮ বছর বয়সী ছেলে। তবে হামলাকারী তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশীদের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহত তরুণকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে চলছে ব্যাপক তল্লাশি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি পূর্বশত্রুতার জের, ডাকাতির চেষ্টা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশে সংঘটিত হয়েছে— সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।

এদিকে ফরেনসিক ও পুলিশ দল ঘটনাস্থলটি সিলগালা করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করছে। ভবনের আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অত্যন্ত নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পুরো এলাকা ঘিরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’